প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ জানানোর পর কি নিশ্চিত হলো আ.লীগের তিন জন নেতা ??

আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব দলকে পাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ জানানোর পর ক্ষমতাসীন দলের তিন জন নেতা বলেছেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে আসবে, এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত।

সরকারের চার বছর পূর্তিতে শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে আহামী জাতীয় নির্বাচন হবে।

তবে সংবিধানে যেভাবে আছে সেভাবেই নির্বাচন হবে, এই কথাটাও জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।’

আর প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থানে হতাশ হয়েছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সবাই একটি সমঝোতার যখন আশা করছে, তখন এ ধরনের বক্তব্যে সবাই হতাশ। নির্বাচন ইস্যুতে জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেশকে আরেক দফায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।’

অর্থাৎ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দুই প্রধান দলের অবস্থানে কোনো নড়চড় নেই।

এই অবস্থায় বিএনপিকে নির্বাচনে পাওয়া যাবে কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘আমরা সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করি। আমরা আশা করি  অতীতের ভুল ভ্রান্তি উপলব্ধি করে এবারে নির্বাচনে বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল অংশ নেবে।’

‘আরেকটা বিষয়হলো নির্বাচন কমিশনকে আমরা শক্তিশালী করেছি সেটা বিএনপি বুঝতে পেরেছে তাই দলটি কুমিল্লা, রংপুর সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।’

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন অনুযায়ী পর পর দুই বার ভোট বর্জনকারী দলের নিবন্ধন থাকে না-এই কথাটিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ফারুক খান। বলেন, ‘বিএনপি এবারের নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। আর বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীরাই নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক। নেতাকর্মীদের চাপে ও নির্বাচন কমিশনের আইনের বাধ্যবধকতার কারণে দলটি নির্বাচনে আসবে।’

সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপিকে ভোটে আসতেই হবে। কারণ গতবারের মত যদি ভুল পুনরায় করে তাহলে তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তাদের পাশে তখন নেতা-কর্মীরা আর থাকবে না।’

আর বিএনপি ভোটে এলেও ক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও মনে করেন খালিদ। বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে দেশের মান মর্যাদা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। মানুষ শান্তি ও নিরাপদে আছে, তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ভোট দিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় বসাবে।’

আওয়ামী লীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, বিএনপি ভোটে না এসে আবারও নাশকতা, নৈরাজ্য করে সুবিধা করতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে দেশের সবচেয়ে যোগ্যতম দল। আমাদের নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে যে কোনো চক্রান্ত প্রতিহত করা। আমরা যে কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবেলা করতে  পারব- এ মেসেজ আমরা দিতে চাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *