প্রধানমন্ত্রীর যে তথ্যকে বিভ্রান্তিমূলক বললেন মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মন্তব্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, প্রধানমন্ত্রী মূলত সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু নির্বাচনকালীন কোনও সরকার গঠনের ব্যবস্থা সংবিধানে নেই। তাই কথাটা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন তিনি।’ শনিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ভাষ্য, ‘জাতির প্রত্যাশা ছিল, আগামী নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু,অবাধ ও নিরপেক্ষ করা যায় সেই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কিছু একটা বলবেন। কিন্তু এ নিয়ে তিনি কিছুই বলেননি। তিনি একতরফা ভাষণ দিয়েছেন। এই ভাষণে দেশের সত্যিকারের চিত্র তুলে ধরা উচিত ছিল, কিন্তু তিনি তা করেননি।’

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরা উন্নয়নের সমালোচনা করেছেন মওদুদ। তার বক্তব্য ‘যে উন্নয়নের মেলার কথা বলা হয়েছে, তা দুর্নীতির মেলা। বড় বড় প্রকল্প মানেই বড় বড় কমিশন। এই যে হাজার হাজার কোটি

টাকার প্রকল্প, এসব তদারকি করেন কে? নির্দ্বিধায় জনগণের অর্থ লুণ্ঠন করা হচ্ছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট। সংগঠনটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমীন, ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া প্রমুখ।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সব দলের সংলাপ চায় বিএনপি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে ভাষণ দিয়েছেন তা ছিল বেআইনি ও অনৈতিক সরকারের চার বছরের পূর্তি উপলক্ষে। তার ভাষণ জাতিকে হতাশ ও উদ্বিগ্ন করেছে। দেশে বিদ্যমান সংকট নিরসনে ওই ভাষণে কোনও রূপরেখা নাই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন তা খুবই অস্পষ্ট, ধোঁয়াশাপূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন, তাহলে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিএনপি মনে করে, সংলাপের মাধ্যমেই ২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব।’

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান-২ এর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষ দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিভাবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা স্পষ্টভাবে সংবিধানে বলা আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন, তাহলে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিএনপি মনে করে, সংলাপের মাধ্যমেই ২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে স্পষ্ট কোনও বিধান নেই। সংবিধান অনুযায়ী যদি সংসদ বহাল রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। কারণ সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকার হবে বর্তমান সরকারের অনুরূপ। নির্বাচনকালীন সরকার কেবল রুটিন ওয়ার্ক করবে এমন কিছু সংবিধানে উল্লেখ নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের শাসনকে পাকাপোক্ত করার একটি ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংবিধান ও গণতন্ত্র সবসময় সমার্থক হয় না। যদি হতো তাহলে হিটলার ও মুসোলিনির শাসনকেও গণতান্ত্রিক বলা হতো। কারণ তাদের শাসনও সংবিধান অনুযায়ী ছিল।’

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত কপিমির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন, তাহলে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিএনপি মনে করে, সংলাপের মাধ্যমেই ২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব।’

নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কেমন হতে পারে তা নিয়ে বিএনপির একটি চিন্তাভাবনা আছে বলেও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হলে দেশে যে অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলেও আমরা মনে করি।’

সংবাদ সম্মেলনে এ সরকারের সময় ব্যাংক লুট, শেয়ার বাজার লুট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, খুন-গুম, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বিদেশে টাকা পাচার সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনটি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মঈন খান, আমীর খসরু মাহামুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *