নির্বাচনী মাঠ গোছাচ্ছে আওয়ামী লীগ – বিএনপি কি আদালত আর অনলাইনেই থাকবে ?

সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ গোছানোর কাজ শুরু করছে আওয়ামী লীগ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করে তৃণমূলকে সুসংগঠিত করতে চায় ক্ষমতাসীনরা। এটা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে একক শক্তি হিসেবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা। মাঠের বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে- এমনটা চিন্তা করেই এ বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটির হাইকমান্ড।

স্থানীয় নির্বাচনসহ নানা ইস্যুতে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা এখন দ্বিধা-বিভক্ত। তাদের ঐক্যবদ্ধ করে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামাতে না পারলে সরকারবিরোধী জোট এর সুযোগ নিতে পারে- এমন আশঙ্কাও রয়েছে দলটির। নির্বাচনের আগেই কেন্দ্রের সর্বশক্তি নিয়োগ করে তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুত করাই দলটির অন্যতম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য দলীয়ভাবে সাংগঠনিক সফর শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য কেন্দ্রের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সমন্বয়ে ৭৪টি সাংগঠনিক জেলার জন্য ১৫টি টিম গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফর শুরু হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদে এসে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি ঘটছে। প্রতিটি আসনে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে তারা। একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি তো লেগেই আছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা নিরসন করা জরুরি বলে মনে করছেন নেতারা। একাধিক নেতা জানান, আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এই টিমগুলো সারা দেশে কাজ করবে।

সাংগঠনিক সফর শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভার মাধ্যমে জেলা, উপজেলা ও থানাগুলোতে অনুষ্ঠিতব্য সভা-সমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের পাশাপাশি এই সময়ে সভা-সমাবেশগুলোতে বিগত দিনে বিএনপি জোটের আন্দোলন চলাকালে দেশব্যাপী ভয়াবহ নাশকতার খণ্ড চিত্র তুলে ধরা হবে। এ ছাড়াও বর্তমান সরকারের উন্নয়নের তুলনামূলক চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরবেন নেতারা। এতে আগামী নির্বাচন উপলক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন নেতারা।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত এই টিমগুলো আগামী সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সংগঠনের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা পর্যায়ে সাংগঠনিক সফরে যাবে এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে। এসব টিমের মধ্যে ১ নম্বর টিমের প্রধান তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী; ২ নম্বর টিমের প্রধান আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে রংপুর, রংপুর মহানগর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলা; মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে ৩ নম্বর টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, রাজশাহী মহানগর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা; লে. কর্নেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খানের নেতৃত্বে ৪ নম্বর টিম জয়পুরহাট, বগুড়া, নওগাঁ ও নাটোর; পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ৫ নম্বর টিম বাগেরহাট, খুলনা, খুলনা মহানগর, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইল সফর করবে।

কাজী জাফর উল্লাহর নেতৃত্বে ৬ নম্বর টিম মাগুরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর; আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে ৭ নম্বর টিম বরিশাল, বরিশাল মহানগর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলা; সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে ৮ নম্বর টিম গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলা; ড. মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ৯ নম্বর টিম টাংগাইল, শেরপুর ও জামালপুর জেলা; সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০ নম্বর টিম নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ মহানগর ও কিশোরগঞ্জ জেলা সফর করবে।

আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে ১১ নম্বর টিম সিলেট, সিলেট মহানগর, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা; ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে ১২ নম্বর টিম রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম মহানগর ও কক্সবাজার জেলা; শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নেতৃত্বে ১৩ নম্বর টিম কুমিল্লা, কুমিল্লা মহানগর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা; অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুর নেতৃত্বে ১৪ নম্বর টিম নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলা এবং ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ১৫ নম্বর টিম রাজধানী ঢাকা, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, গাজীপুর, গাজীপুর মহানগর ও মানিকগঞ্জ জেলা সফর করবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ২৬ জানুয়ারি থেকে সাংগঠনিক সফর শুরু করার জন্য যে টিম গঠন করা হয়েছে তারা আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সারা দেশে জনমত গঠনের জন্য কাজ করবে। তিনি বলেন, সাংগঠনিক সফরগুলোতে স্থানীয়ভাবে যে সভা সমাবেশ হবে তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যে উন্নয়ন অগ্রগতি হয়েছে তার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হবে। এর পাশাপাশি বিএনপি জনগণের বিরুদ্ধে অতীতে যে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করেছে সেটা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

এই সফর প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, যেখানে যেখানে দলের মধ্যে বিরোধ আছে তা চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সফরে এটা বেশি প্রাধান্য পাবে। তা ছাড়া নির্বাচনী কাজে যাতে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করে সেই জন্য কাজ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *