মনোনয়ন পাওয়ার আগেই পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ বিএনপির প্রাথীর

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী শাকিল ওয়াহেদ অভিযোগ করেছেন, তার কর্মী-সমর্থকদের পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে মনোনয়নপত্র তুলতে এসে সাংবাদিকদের সামনে এই অভিযোগ করেন বিএনপির এই সহ-প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শাকিল।

নির্ধারিত সময়ের আগেই পোস্টার লাগানোর প্রসঙ্গে চাইলে তিনি বলেন, “পোস্টার লাগিয়েছে তারিখের আগেই। তাই যে যে জায়গায় আমরা শুনছি, সেসব জায়গা থেকে পোস্টার সরিয়ে নিতে বলছি। আমি একা তো লাগাইনি, একা খোলাও সম্ভব না।

“পোস্টার লাগানো যেমন কঠিন, খোলাও তেমন কঠিন। পোস্টার খুলতে গেলেও তো সমস্যা। আমার লোকজন যখন লাগাচ্ছে, তাদের পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এটা ঠিক না।”

মনোনয়নপত্র তুলতে এলেও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় তা আর নিতে পারেননি শাকিল।

“মনোনয়নপত্র তুলতে এসেছিলাম, কিন্তু সোনালী ব্যাংক বন্ধ আছে। চালান জমা দেওয়া যাবে না। ওনারা নগদও নিতে চাচ্ছেন না, আবার পে-অর্ডারও নিতে চাচ্ছেন না। আমরা আবার আগামীকাল আসব।”

দল থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে শাকিল ওয়াহেদ বলেন, “দলের কোনো সবুজ সংকেত আছে বলে আমি মনে করি না। দল একটি মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। বিএনপি একটি সংগঠিত দল, আমি একজন মনোনয়ন প্রার্থী।

“দলের স্থায়ী কমিটি আজকে রাতে মিটিংয়ে বসবে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিস্থিতে কে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারবে, সেসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে তারা মনোনয়ন দেবেন।”

এদিকে শনিবার পর্যন্ত মেয়র পদে একজন, সাধারণ আসনে ৬৭ জন এবং সংরক্ষিত আসনে ১৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার মো. আবুল কাশেম।

প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি, মনোনয়ন ফরম বেচবে বিএনপি

দলের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছে আবেদনপত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

শনিবার রাতে গুলশানের কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে বেরিয়ে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক নেতারা রোববার বিকাল ৪টার মধ্যে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ফরম সংগ্রহ করেত পারবেন। পরদিন বিকাল ৪টার মধ্যে ২৫ হাজার টাকা জামানতসহ আবেদন ফরম জমা দিতে হবে। ওই দিন রাতেই গুলশানের কার্যালয়ে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের কাছে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের সাক্ষাৎকার দিতে হবে।

আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে উপনির্বাচনের জন্য আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন। এই উপনির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। তা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ জানুয়ারি।

মেয়র প্রার্থী ঠিক করতে এরইমধ্যে আগ্রহীদের মাঝে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হতে আগ্রহী পোশাক ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম ও সাবেক সাংসদ ডা. এইচবিএম ইকবালসহ আটজন ২৫ হাজার টাকা দিয়ে শনিবার তাদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

তিন বছর আগের এই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে হারিয়ে মেয়র হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনিসুল হক।

দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ এবারও আলোচনায় রয়েছেন। তার সঙ্গে বিএনপির সহ-প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ, সাবেক সাংসদ অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানও মেয়র প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন।

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পর কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও রংপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট করেছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীরা।

কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটির উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী মেয়র পদে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিনকে মনোনয়ন দিলে জটিলতা সৃষ্টি হয় জোটে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। সেখানেই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সব দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারপারসনের ওপর অর্পণ করা হয়।

শনিবার রাতে দলের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে এই বৈঠকেই খালেদা জিয়া প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন বলে বিএনপি মহাসচিব সকালে জানিয়েছিলেন।

খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা হয় বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।

বৈঠকে মির্জা ফখরুল ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *