প্রার্থীর কথা কখন জানাবে বিএনপি ?? জেনে নিন ক্লিক করে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন, তা জানা যাবে আগামীকাল সোমবার। আজ রোববার মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি।

বেলা ১১টার দিকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফরম বিক্রির পর এ তথ্য জানান।

জোটগতভাবে প্রার্থী ঘোষণার কথা জানতে চাইলে রিজভী জানান, আলোচনা চলছে।

উত্তর সিটিতে কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থী দেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, এলাকায় স্থানীয়ভাবে যাঁরা রাজনীতি করেন, জনপ্রিয়তা অনুযায়ী তাঁরা নির্বাচন করবেন।

ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সহপ্রকাশনা সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ রিজভীর কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম নেন। পরে শাকিল বিশ্বমানের সিটির মতো করে ঢাকা মহানগর উত্তরকে গড়ে তোলার প্রত্যয় জানান। সাড়ে ১২টার দিকে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান মনোনয়ন নেন। মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকা সিটির জন্য তাঁর সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় জানান তিনি।

বেলা পৌনে একটার দিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুমের পক্ষে মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল বাসিত মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। আব্দুল কাইয়ুম মামলার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন।

মনোনয়ন সংগ্রহের পর বজলুল বাশিত বলেন, কাইয়ুম বলেছেন, তাঁকে যদি দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তিনি দলের হয়ে কাজ করবেন। এরপর দলের সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন।

বিএনপি সংলাপ চায়, আওয়ামী লীগের না

প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে যে নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলেছেন, সেটা বিএনপির কাছে পরিষ্কার নয়। তাই দলটি বলছে, এই বিষয়ে সংলাপ হতে পারে। কিন্তু সরকারি দল আওয়ামী লীগ বলছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরদিনই নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে সংলাপ বা আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আগের মতো সরাসরি বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়েছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল।

সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বতোভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।’

এর ব্যাখ্যায় আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ এক নেতা বলছেন, বর্তমান সরকারই হবে নির্বাচনকালীন সরকার। এতে বিএনপির ঠাঁই হবে না।অপর দিকে বিএনপি চায় এমন একটি সরকার, যারা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংবিধানে সরাসরি কিছু বলা নেই। তবে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা কমিয়ে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠন করে আওয়ামী লীগ। এই সরকারে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও জাতীয় পার্টিকে (জেপি) রাখা হয়েছিল। অন্য দল থেকে তিনজনকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়, যাঁরা নির্বাচিত ছিলেন না। এর আগে প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের নেতারা নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এবার নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, তা নিয়ে নিশ্চিত নন আওয়ামী লীগের নেতারাও। নির্বাচন কমিশনের সামনেও এর কাঠামো স্পষ্ট নয়।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গতকাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারই হবে নির্বাচনকালীন সরকার। অন্য কিছু না। অন্য দল থেকে লোক নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে, এমন কথা প্রধানমন্ত্রী বলেননি। বর্তমান সরকার হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যারা শুধু দৈনন্দিন কাজগুলো করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *