/পদ্মায় ৩ লঞ্চডুবি: সব হারালেন মোহাম্মদ আলী

পদ্মায় ৩ লঞ্চডুবি: সব হারালেন মোহাম্মদ আলী

ঢাকার একটি হাসপাতালে মেয়ে জন্ম দেন মোহাম্মদ আলী মাতবরের স্ত্রী। এ আনন্দ নিয়ে লঞ্চে বাড়ি ফিরছিলেন চার দিনের নবজাতক মেয়ে, স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়ে। আনন্দ শেষ পর্যন্ত শোকের সাগর হয়ে গেল মোহাম্মদ আলীর জীবন। তাদের বাড়িতে ফেরা সম্ভব হলো না। পদ্মায় লঞ্চ ডুবে মোহাম্মদ আলীর মেয়ে, স্ত্রী ও শাশুড়ি এখনো নিখোঁজ। এ দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে গেল মোহাম্মদ আলীর পরিবার।

সোমবার ভোর ৫টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ওয়াপদা লঞ্চঘাটে স্রোতের তোড়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) পন্টুনের পাশে নোঙ্গরকরা তিনটি লঞ্চ ডুবে যায়। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২০ জন।

মৌচাক-২ নামের লঞ্চে করে ঢাকা থেকে ওয়াপদা লঞ্চঘাটে এসেছিলেন মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা। মোহাম্মদ আলীর বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার লোনসিংহ গ্রামে। তিনি মোজাইক মিস্ত্রির কাজ করেন।

জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী পারভিন আক্তার সন্তান প্রসব করেন। রোববার রাতে তারা লঞ্চে করে নড়িয়ার উদ্দেশে রওনা হন। সোমবার ভোর চারটার দিকে মৌচাক-২ লঞ্চটি ওয়াপদা ঘাটে পৌঁছায়। বাইরে অন্ধকার থাকায় তারা লঞ্চে অপেক্ষা করছিলেন। লঞ্চের অন্য যাত্রীরা নেমে গিয়েছিলেন। ভোর পাঁচটার দিকে হঠাৎ নদীভাঙন ও তীব্র স্রোতে ঘাট থেকে পন্টুন বিছিন্ন হয়ে লঞ্চটি তলিয়ে যায়। মোহাম্মদ আলী কোনো রকমে সাঁতরে তীরে ওঠেন। তবে তার নবজাতক মেয়ে, স্ত্রী পারভীন (৩২) ও শাশুড়ি ফকরুন্নেছা বেগম (৪৫) নিখোঁজ রয়েছেন।

পরে স্থানীয় লোকজন মোহাম্মদ আলীকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। দুপুরের দিকে মোহাম্মদ আলীর মা সায়েরা বেগম তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার বাড়ি ফিরেছেন মোহাম্মদ আলী ।

মোহাম্মদ আলী বলেন, সেদিন ভোরে লঞ্চ ঘাটে আসার পর মেয়ে, স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়ে নেমে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমার স্ত্রী পারভীন দিনের আলোর জন্য অপেক্ষা করতে বলেছিল। ওর শখ ছিল দিনের আলোতে মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে যাবে। তার ইচ্ছা পূরণ হল না। আমাকে একা ফেলে ওরা এখন চিরতরে অন্ধকারে হারিয়ে গেল। এখনো আমার চোখে ভাসছে, আমার মেয়েটির চেহারা।