রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণ ‘লোক দেখানো

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মাঝে বিএনপির ত্রাণ বিতরণে প্রতিবন্ধকতা প্রমাণ করে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়া ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্য ছিল লোক দেখানো।

মিয়ানমার থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন সরকার যদি আন্তরিক হত তাহলে বিএনপির পক্ষ থেকে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের ত্রাণ বিতরণে বাধা দেয়া হত না।

‘আমি বিএনপির প্রতিনিধি দলের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে বাধা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি ধিক্কার জানাই ও ঘৃণা প্রকাশ করছি।’ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দশম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।

তিনি বলেন, অসহায় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ টিমকে কক্সবাজারের উখিয়া যেতে বাধা দেয়ার ঘটনায় সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। আমাদের কাছে খবর এসেছে কক্সবাজারে আমাদের যে কেন্দ্রীয় রিলিফ টিম ২২টি ট্রাক নিয়ে গিয়েছিল জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে। তাদের উখিয়ায় প্রশাসন যেতে দিচ্ছে না, পুলিশ ট্রাক আটকে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কক্সবাজারে আমাদের বিএনপি অফিস পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আমাদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অফিসে আটকা পড়ে আছেন।

‘আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিএনপির ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করা হোক। অনাচারে জীবনযাপন করা রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে বিএনপিকে সুযোগ দেয়া হোক।’ আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরাও নির্বাচন চাই। তবে সেই নির্বাচনের আগে নির্বাচনী পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে।

সর্বপ্রথম বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করে জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। অন্যথায় আপনারা (সরকার) যেভাবে গুম, খুন, মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন নিপীড়ন চালাচ্ছেন তার জন্য একদিন জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে,
জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার আবারও গায়ের জোরে এক তরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। উদ্দেশ্য জনগণ ও বাংলাদেশের বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে ফের প্রতারণা করে নির্বাচন দেয়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনায় তিনি বলেন, আপনি বলেছিলেন চীন এবং ভারতের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশের কুটনৈতিক সর্ম্পক সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। অথচ এখন দেখতে পাচ্ছি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন ও ভারত মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়েছে। তাহলে কী প্রধানমন্ত্রীর চীন ও ভারত নিয়ে কথার কোনো ভিত্তি নেই। যার প্রমাণ তারা (চীন ও ভারত) তো এখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে নেই।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বক্তব্যে দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর বিএনপি (উত্তর) সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সী বজলুল বাসিত আঞ্জু, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরীন খান, শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *