এখানে এত আগুন কি করে এলো ? জেনে নিন রহস্য!

মনে হচ্ছে এই যেন কোন বিরাট দৈত্য জ্বলন্ত মুখে হাঁ করে আছে। কিন্তু দেখে এমনটা মনে হলেও আসলে এটি একটি বিরাট গর্ত। তবে এটি কোন প্রাকৃতিক গর্ত নয়। ১৯৭১ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রাকৃতিক গ্যাসসমৃদ্ধ দারউয়িজি এলাকায় অনুসন্ধানের সময় ক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। প্রথমে তারা মনে করেছিল এটি একটি তেল ক্ষেত্র তাই ড্রিলিং মেশিন দিয়ে তেল উত্তোলনের জন্য সেখানে ক্যাম্প স্থাপন করে। কিন্তু পরে তারা সেখান থেকে বিষাক্ত গ্যাস বের হতে দেখে।

গ্যাস অনুসন্ধানের সময় অনুসন্ধানকারীরা গ্যাসবহুল গুহার মধ্যে মৃদু স্পর্শ করলে দুর্ঘটনাক্রমে মাটি ধসে পুরো ড্রিলিং রিগসহ পড়ে যায়। যদিও এই দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। প্রাথমিকভাবে গবেষণা করে বিষাক্ত মিথেন গ্যাসের ব্যাপারে গবেষকরা নিশ্চিত হন। পরিবেশে বিষাক্ত গ্যাস প্রতিরোধ করার জন্য ভূতত্ত্ববিদরা তখন গ্যাস উদ্গিরণ মুটি জ্বালিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের ধারণা ছিল এখানে সীমীত পরিমাণ গ্যাস থাকতে পারে। কিন্তু তাদের ধারণা ভুল প্রমান করে এটি ১৯৭১ সাল থেকে অনবরত জ্বলছে।

নরকের এই দরজটি তুর্কমেনিস্তানের ড্রাভা শহরের অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে অগ্নিমুখটি অনবরত জ্বলছে বলে একে নরকের দরজা বলা হয়। কারাকুম মরুভূমিতে অবস্থিত অগ্নিমুখটির ব্যাস ৭০ মিটার ও গর্ত ২০ মিটার দীর্ঘ। এটি মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে ভরা ভূগর্ভস্থ একটি কক্ষের মত । একটি ব্যাপার শীঘ্রই পরিস্কার হয়ে আসে যে এর সাথে পৃথিবীর গভীরের কোন প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎসের যোগসূত্র আছে।

এর ফলে প্রথম দিন থেকে আজও জ্বলেই চলেছে এই বিরাট আকারের গর্তটি। গ্রামবাসিদের কাছে এর খনন এবং অন্যান্য বিষয় পরিস্কার থাকলেও তারা এটাকে দোজখের দরজা নামে চিনতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। রাতের বেলা এর জ্বলন্ত আগুনের শিখা মাইল খনেক দূর থেকেও দেখা যায়। এর আশেপাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে দেখতে পারেন, তবে মিনিট খানেকের বেশি কেউই দাড়াতে পারেনি আজ পর্যন্ত।

২০১০ সালের এপ্রিলে তুর্কমেনিস্তানের রাষ্ট্রপতি গ্যাসক্ষেত্রটি পরিদর্শন করে এটি বন্ধের কথা বলেন। তিনি বলেন তা না হলে ওই এলাকার অন্যন্য প্রকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের উপর এর প্রভাব পরতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com